প্রি-ডায়াবেটিস :ডায়াবেটিসের আগের সতর্ক সংকেত 

Jul 16, 2026 - 18:02
Jul 16, 2026 - 18:03
 0  11
প্রি-ডায়াবেটিস :ডায়াবেটিসের আগের সতর্ক সংকেত 

ডায়াবেটিসের আগের ধাপ হিসেবে পরিচিত প্রি-ডায়াবেটিসকে অনেকেই তেমন গুরুত্ব দেন না। অথচ এ সময় রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলেও তা এখনো ডায়াবেটিসের পর্যায়ে পৌঁছায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পর্যায়ে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

প্রি-ডায়াবেটিস বলতে কী বোঝায়
প্রি-ডায়াবেটিস হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, কিন্তু ডায়াবেটিস হিসেবে ধরা পড়ার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এই সময়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়—
> ফাস্টিং ব্লাড সুগার: ১০০–১২৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার
> HbA1c: ৫.৭–৬.৪ শতাংশ

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এই মানগুলোর অর্থ— শরীর ধীরে ধীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের দিকে এগোচ্ছে।

প্রি-ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ

প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১.অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
২.শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
৩. অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস
৪.বংশগত ঝুঁকি
৫.দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানায়, জীবনধারার পরিবর্তনই প্রি-ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান কারণ।
লক্ষণগুলো অনেক সময় বোঝা যায় না
প্রি-ডায়াবেটিসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো— সাধারণত কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। ফলে অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে তারা ঝুঁকিতে আছেন। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে—
১. অতিরিক্ত ক্লান্তি
২. ওজন বৃদ্ধি বা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা

প্রি-ডায়াবেটিস কি রিভার্স করা যায়?

ভালো খবর হলো—হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি রিভার্স করা সম্ভব। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) জানায়, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, মাত্র ৫–৭ শতাংশ ওজন কমানো এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস প্রি-ডায়াবেটিস থেকে ডায়াবেটিসে যাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।

রিভার্স করতে কী করবেন?

১.প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম
২. ভাত, রুটি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিমিত খাওয়া
৩.শাকসবজি, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার বাড়ানো
৪.ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
৫.নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই পরিবর্তনগুলো ওষুধ ছাড়াই অনেক মানুষের রক্তে শর্করাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনে।

 তাই সচেতন জীবনধারা এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসকে দূরে রাখা যায়।

সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

লাইফ স্টাইল Vision: বাংলা ভাষায় স্বাস্থ্যকর জীবন, মানসিক সুস্থতা, পরিবার, কর্মজীবন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং জীবনমান সম্পর্কিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, গবেষণানির্ভর ও প্রভাবশালী Human Development Platform হওয়া; যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জীবনমান উন্নয়নের একটি প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ভ্রমণ, পরিবার, ক্যারিয়ার, ফ্যাশন, খাদ্য, মানসিক সুস্থতা এবং জীবনদক্ষতা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশেষজ্ঞ মতামত, গবেষণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এমন কনটেন্ট তৈরি করা, যা মানুষকে আরও সচেতন, সুস্থ, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করে।